ফিটনেসের নতুন দিগন্ত
আয়রন ফেস্টের আলোয় উদ্ভাসিত গোল্ড’স জিম
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
আর্ম রেসলিং প্রতিযোগিতায় লড়ছেন দুই প্রতিযোগী। ছবি: লুৎফর রহমান
এ যেন প্রতিযোগীদের এক দারুণ মিলনমেলা। ‘আয়রন ফেস্ট ২০২৬’-এ গতকাল একঝাঁক তরুণ-তরুণীর উপস্থিতিতে বসুন্ধরা গোল্ড’স জিম হয়ে উঠেছিল প্রাণবন্ত। বিকেল থেকেই শুরু হয় প্রতিযোগীদের নিবন্ধন। উৎসবমুখর পরিবেশে চলে সেই নিবন্ধন কার্যক্রম।
নিবন্ধন শেষে সাতটি ইভেন্টে ২০০ জনের বেশি প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে আয়রন ফেস্টের আয়োজন হয়ে ওঠে জমকালো।
গত বছরের মে মাসে শুরু হয়েছিল গোল্ড’স জিমের যাত্রা। যাত্রা শুরুর পর থেকেই দেশের অন্যতম বৃহৎ ও আধুনিক জিম হিসেবে এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ওয়ার্কআউট সেন্টার, কার্ডিও সেশন জোন, ক্রায়োথেরাপি, কোল্ড প্লাঞ্জ, জাকুজি পুল, হিমালয়ান সল্ট বাথসহ নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা দুটি সুইমিংপুল—সব মিলিয়ে আধুনিক ও অত্যাধুনিক সরঞ্জামের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে সুবিশাল এই স্থাপনা, যেখানে নানা আয়োজন লেগেই থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল গোল্ড’স জিম সেন্টারে হয়ে গেল ‘আয়রন ফেস্ট ২০২৬’।
শক্তি, পারফরম্যান্স ও ফিটনেস সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ফিটনেস কমিউনিটি সেখানে একত্রিত হয়; বিকেল ৫টায় শুরু হয়ে যা চলে রাত ১২টা পর্যন্ত। সাত ঘণ্টার এই আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত অ্যাথলেট, জিম সদস্য, ফিটনেসপ্রেমী, কোচ এবং কিছু ইনফ্লুয়েন্সারের পাশাপাশি অংশ নেয় কয়েকটি ওয়েলনেস ব্র্যান্ডও। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল দেশের প্রথম দিকের বড় আকারের শক্তি ও ফিটনেস মেলাগুলোর একটি।
আয়োজকরা এটিকে শুধু একটি প্রতিযোগিতা হিসেবেই দেখছেন না, বরং ক্রমবর্ধমান ফিটনেস সংস্কৃতির একটি সম্মিলিত আয়োজন হিসেবে বিবেচনা করছেন। গোল্ড’স জিমের নারী বিভাগের প্রধান প্রশিক্ষক আফরোজা আক্তার ইতি যেমন বলছিলেন, ‘আমরা চাই আমাদের তরুণ প্রজন্ম ফিটনেসসচেতন হয়ে উঠুক। এদিক থেকে এবারের আয়রন ফেস্ট একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। এত বড় আয়োজন ফিটনেস নিয়ে তরুণদের আগ্রহ আরো বাড়াবে।’
তরুণসমাজকে নেতিবাচক প্রবণতা থেকে দূরে রাখতেও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন আফরোজা।
তাঁর কথা, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশের মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। আমরা বিশ্বাস করি, ফিটনেসসচেতনতা তাদের খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখতে এবং একটি সুন্দর সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’ গতকালের আয়রন ফেস্টে দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ডেডলিফট ও বেঞ্চ প্রেস ব্যাটেল। এ ছাড়া ছিল আর্ম রেসলিং, টাগ অব ওয়ার টিম চ্যালেঞ্জ, ফার্মারস ক্যারি, অ্যাটলাস স্টোন চ্যালেঞ্জ, ১০ মিটার ডাইভিং চ্যালেঞ্জ এবং পাওয়ার স্ল্যাপ প্রতিযোগিতা।
এ ছাড়া ২০টিরও বেশি ব্র্যান্ড স্টলে খাবার ও পানীয়, অ্যাক্টিভওয়্যার, সাপ্লিমেন্টস এবং ফিটনেস সম্পর্কিত পণ্য প্রদর্শন করা হয়, যা দর্শকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে। ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সার এবং ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটররাও পুরো আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। ফিটনেস কনটেন্ট ক্রিয়েটর বুশরা নুসাইবা চৌধুরী এ ধরনের আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। এখানে থাকতে পারা আমার জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা। আশা করি, সামনে আমরা ফিটনেসসচেতনতা নিয়ে আরো বেশি আয়োজন দেখতে পাব। এতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা যেমন বাড়বে, তেমনি আগ্রহও বৃদ্ধি পাবে।’ আয়োজকদের আশা, বাংলাদেশে ফিটনেস শিল্পের বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।